শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

মিয়ানমার থেকে আসছে কোরবানির পশু: খামারিরা দুশ্চিন্তায়

মিয়ানমার থেকে আসছে গরু।

আবদুল আজিজ:
দেশের খামারিদের লোকসান থেকে বাঁচাতে সম্প্রতি আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু, তা অমান্য করে একশ্রেণীর মুনাফাকারবারি মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসছে কোরবানির পশু। এছাড়াও একের পর এক লকডাউন সহ নানা কারণে কক্সবাজার জেলার সাড়ে ৭ হাজার প্রান্তিক খামারি দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির বাজার চালু ও মিয়ানমার থেকে পশু আসা বন্ধ করার দাবি প্রান্তিক খামারিদের।

আর মাত্র কয়েকদিন পর উদযাপিত হবে কোরবানির ঈদ। এই ঈদকে টার্গেট করে কক্সবাজার জেলার খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে মোটাতাজা করণ পদ্ধতিতে প্রস্তুত করে কোরবানির পশু। এবারের কোরবানির ঈদে কক্সবাজার জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে ১লাখ ৬৫ হাজার। কিন্তু, জেলার সাড়ে ৭ হাজার প্রান্তিক খামারে এক লাখ ৭৩ হাজার ৫১৯টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৮ হাজার ৫১৫টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে কক্সবাজার জেলায় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্য জেলা গুলোতে কোরবানির পশু রপ্তানি করতে পারবে খামারিরা। কিন্তু,একের পর এক লকডাউন ও পাশ্ববর্তীদেশ মিয়ানমার থেকে পশু আসার ফলে খামারিরা রয়েছে দুু:চিন্তায়। এতে করে খামারিদের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি পথে বসার উপক্রম দেখা দিয়েছে। তাই, মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানি বন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর বাজার চালু করা দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

দেশীয় খামারের গরু

উখিয়ার সোনাইছড়ি গ্রামের খামারি শাহা আলম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর গো-খাদ্যের মুল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। লকডাউনের বিধি-নিষেধের সুযোগে কুড়া, ভূষি, খৈল সহ সবকিছু দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানিরা। এসব মুল্য বৃদ্ধির পর আমরা কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করেছি। কিন্তু, গরু গুলো সময় মত বাজারে বিক্রি করতে না পারলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে’।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকার গরু খামারি মিন্ঠু সরকার জানান, ‘আমার খামারে ২৪টি কোরবানির উপযুগী ষাঁড় গরু রয়েছে। যার একেকটি মুল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। কিন্তু, এই সময়ে যদি মিয়ানমার অথবা ভারত থেকে গরু আমদানি করলে আমরা ক্ষতির সম্মুখিন হবো।’

কক্সবাজার আর,সি,জি এগ্রো ফার্মের মালিক শফিকুল ইসলাম (শফিক) জানান, কোরবানি উপলক্ষে ৩০টি বড় আকারের ষাঁড় গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এসব গরুর একেকটি বাজার মুল্য দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কিন্তু, একের পর এক লকডাউন এবং মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আসার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’

দেশীয় খামারে গরু।

কক্সবাজার সদর উপজেলা ডেইরি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফাহাদ জানান, কক্সবাজার জেলার প্রান্তিক খামারি সারা বছর বসে থাকে কোরবানির ঈদে গরু বিক্রি করার জন্য। এজন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করে গরু মোটাতাজা করে থাকে। কিন্তু, লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার চালু না করলে খামারিরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসবে। তাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির গরুর বাজার চালু করলে খামারিরা বাঁচবে এবং দেশ বাঁচবে।’

কক্সবাজার জেলার খামারিরা এবারের কোরবানির ঈদে চাহিদার তুলনায় বেশী কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। একারণে মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানির প্রয়োজন নেই’।ডা: অসিম বরণ সেন, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা,কক্সবাজার

কক্সবাজার জেলা ডেইরি এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আব্দুল্লাহ জানান, ‘কক্সবাজার জেলায় সাড়ে ৭ হাজার গরু খামারি রয়েছে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ আসলে কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের করিডোর দিয়ে কিছু অতি মুনাফা কারবারি মিয়ানমার থেকে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশু আমদানি করে দেশীয় খামারিদের ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিতে তৎপরতা শুরু করে। তাই, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ করে দেশীয় খামারিদের শত কোটি টাকার পশু রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।’

কক্সবাজার প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: অসিম বরণ সেন জানান, ‘কক্সবাজার জেলার খামারিরা এবারের কোরবানির ঈদে চাহিদার তুলনায় বেশী কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। একারণে মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আমদানির প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় খামারিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আন্ত:মন্ত্রণালয়ে একটি কমিটি হয়েছে। উক্ত কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে মিয়ানমার থেকে কোন প্রকার পশু আমদানি না করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এরপরও কিছু মুনাফাকারবারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মিয়ানমার থেকে গরু আনার চেষ্টা করছে। মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আসলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির বাজার চালু করলে খামারিরা লাভবান হবে।’

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলা সহ দেশের খামারিদের লোকসানের কথা বিবেচনা করে গত ৫ জুলাই মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এরপর থেকে একদিন মিয়ানমারের গবাদি পশু আমদানি বন্ধ থাকলেও পুনরায় মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আসছে রহস্যজনক কারণে। অবশ্য, গত ৯ জুলাই শুক্রবার টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা কিছু গরু, মহিষ ভর্তি ট্রলার ফিরিয়ে দিয়েছে দায়িত্বরত বিজিবির সদস্যরা।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION